কাতার মঙ্গলবার জানিয়েছ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের জেরে ওয়াশিংটনের হামলার হুমকির পর কাতার ওই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
দোহা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা জানি যে, যেকোনো উত্তেজনা এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে। তাই আমরা যতটা সম্ভব তা এড়াতে চাই।
গত বছরের জুনে ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। নিজ ভূখণ্ডে ওই নজিরবিহীন হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করে কাতার।
গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেবারের বিপ্লবে শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউস সোমবার জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর দমননীতি ঠেকাতে ইরানে বিমান হামলার কথা ভাবছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কয়েকদিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ইরান থেকে তথ্য আসছে।
ট্রাম্পের বারবার হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাত করবে। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্তব্যে মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌপরিবহনকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নরওয়েভিত্তিক এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত হয়েছে—বিক্ষোভে ৬৪৮ জন নিহত হয়েছেন।
তবে, তারা সতর্ক করে বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, তা ৬ হাজারেরও বেশি।