×
ব্রেকিং নিউজ :
তিনি নির্বাচিত হলে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা দেশগুলোকে ‘মূল্য দিতে হবে’ : বাইডেন নেভালনিকে ব্যক্তিগতভাবে জার্মানিতে চিকিৎসার অনুমতি দিলেন পুতিন সমুদ্র বন্দরসমূহের জন্য চার নম্বর সতর্কতা সংকেত ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সক্ষম হচ্ছে দেশ : পরিবেশ মন্ত্রী কৃষি উৎপাদন ও মজুদ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক বঙ্গবন্ধুর নামে পদক প্রবর্তন সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চাইনিজ ফুটবলের ফাইনালে ১০ হাজার দর্শক প্রবেশের অনুমোদন : এফএ কর্মকর্তা দেশে সকল ধর্মের মানুষ সুন্দর পরিবেশে নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছে : স্পিকার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
  • আপডেট টাইম : 16/09/2020 08:10 PM
  • 156 বার পঠিত

করোণাভাইরাসের বিস্তার, উৎপত্তি, লক্ষণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ সম্পর্কিত অনেক তথ্যই এখন আর আমাদের কারোরই অজানা নয়। করোণাভাইরাস সম্পর্কিত যে সকল তথ্য বা ধারনা আমরা জানি সেগুলো প্রায়শ সঠিক নাও হতে পারে আবার সঠিক বলে ধরে নিলেও সেগুলোর ভুল উপস্থাপন বা ব্যাখ্যা থাকতে পারে। করোণাভাইরাস সম্পর্কিত এইরূপ কিছু জানা অথচ বিভ্রান্তিমূলক ধারনা তুলে ধরা হলো।

আমরা অহরহ করোণাভাইরাস (Coronavirus) শব্দটি ব্যবহার করি। প্রকৃতপক্ষে এটি ভাইরাসটির সঠিক নাম নয়। বিশ্বে মানব সম্পর্কিত এরূপ ৭ ধরনের করোণাভাইরাস রয়েছে, যার মধ্যে সার্স (SARS)এবং মার্স (MERS) নামক দুটি করোণাভাইরাসও বিদ্যমান। আমরা যে ভাইরাসকে করোনা নামে অবহিত করছি সে ভাইরাসের প্রকৃত নাম সার্স-কোভ-টু (SARS-CoV-2) এবং এই সার্স-কোভ-টু ভাইরাস হতে সৃষ্ট রোগের নাম কোভিড-১৯(COVID-19)। এরূপ ভুল নামে ভাইরাসটির নামকরণের একটা কারণ হতে পারে। তা হলো, যখন এ প্রার্দুভাবটি প্রথম দেখা দেয় তখন সকলে ভাইরাসটির নাম ২০১৯ নভেল করোণাভাইরাস (2019 Novel Coronavirus) বলেই জানতো এবং নামটা অনেকাংশে মানুষের মুখে মুখে ছিল। পরবর্তীতে সংক্ষেপে এই ২০১৯ নভেল করোণাভাইরাসটি কেবল করোণাভাইরাস নামেই পরিচিত লাভ করে। কোভিড-১৯ (COVID-19) প্রকৃতই হলো একটা রোগের নাম এবং এই রোগ সংক্রমণের ভাইরাসটির নাম সার্স-কোভ-টু (SARS-CoV-2)।

কোভিড-১৯ (SARS-CoV-2) রোগ সম্পর্কিত আরো কিছু বিভ্রান্তিমূলক শব্দ আমরা শুনে থাকি। এমনকি পত্র-পত্রিকায়ও সেগুলোর প্রয়োগ দেখতে পাই। এরূপ দুটি শব্দ হলো-এপিডেমিক (Epidemic) এবং প্যানডেমিক (Pandemic)। উভয় শব্দের মধ্যে মাত্রাগত অর্থাৎ সংক্রমনের সংখ্যা এবং ভৌগোলিক অর্থাৎ আক্রমনের স্থানগত পার্থক্য রয়েছে। রোগ যখন নির্দিষ্ট কোন ভেীগোলিক এলাকায় বিস্তার লাভ করে তখন তাকে এপিডেমিক (Epidemic) বলে। এই ভেীগোলিক এলাকা কোন দেশ হতে পারে বা কোন অঞ্চল হতে পারে অথবা কোন মহাদেশ হতে পারে। অপরপক্ষে, প্যানডেমিক (Pandemic) আরো ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যখন রোগটি বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করে তখন তাকে প্যানডেমিক (Pandemic) বলে আখ্যায়িত করা হয়।

মূলতঃ কোভিড-১৯ (COVID-19) রোগটি প্রথমে এশিয়ায় কেন্দ্রিভুত ছিল। তখন তাকে এপিডেমিক (Epidemic) বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করলো তখন থেকে রোগটির ব্যাপকতা বোঝাতে প্যানডেমিক (Pandemic) শব্দটি ব্যবহার করা হলো। বলা বাহুল্য, এমন নির্দিষ্ট কোন মুহূর্ত নাই যখন আমরা কোন রোগকে এপিডেমিক (Epidemic) থেকে প্যানডেমিক (Pandemic) বলে পদায়ন করতে পারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে থাকে। কোভিড-১৯ রোগটির ক্ষেত্রে ১১ই মার্চ ২০২০ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির পদবী এপিডেমিক থেকে প্যানডেমিক হিসাবে ঘোষণা করে।

সর্বশেষ, কোভিড-১৯ (COVID-19) সম্পর্কিত আরো তিনটি বহুল প্রচলিত শব্দের ব্যাখ্যা না দিলেই নয়। তা হলোঃ সামাজিক দূরত্ব (Social distance), পৃথকীকরণ (Quarantine) এবং অন্তরণ (Isolation)। সারা বিশ্বে বহু লোক বর্তমানে সামাজিক দুরত্ব (Social distance) বজায় রাখার অভ্যাস করছেন। মৃদু দুরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে গনপরিবহনে কাছাকাছি না দাড়ানো, সাক্ষাতে করমর্দণ না করা এবং অধিক দুরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে যতদুর সম্ভব বাসস্থানে অবস্থান করা এবং বন্ধু-বান্ধব, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ রাখা কে বোঝানো হয়েছে। অপরপক্ষে, পৃথকীকরণ (Quarantine) শব্দটি সাধারণত তখনই ব্যবহার করা হয় যখন কারো অন্যান্য সকলের কাছ থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে এই জন্য যে, তার শরীরে রোগটির জীবানু থাকতে পারে যা থেকে অন্য কারো শরীরে না ছড়ায়। কারন কেহ হয়ত-যার ইতোমধ্যে সংক্রমন হয়েছে-তার সংস্পর্শে এসেছে অথবা সে এমন কোন এলাকা থেকে এসেছে যেখানে অনেক লোক সংক্রমিত হয়েছে।

ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তি সর্বদা প্রথম কয়েকদিন রোগাক্রান্ত হন না অর্থাৎ রোগটির লক্ষন প্রকাশ পেতে বেশ কিছুদিন সময়ের প্রয়োজন পড়ে। এই জন্য সাধারণত ১৪ দিন পৃথকীকরণ (Quarantine) এর সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ১৪ দিন সময় অতিবাহিত হলেই পৃথকীকৃত ব্যক্তি নিজেকে অন্তত নিরাপদ অথবা ঝুকিমুক্ত মনে করতে পারে। সর্বশেষ কেহ যদি দুর্ভাগ্যবশতঃ সার্স-কোভ-টু দ্বারা সংক্রমিত হন অর্থাৎ কোভিড-১৯ রোগটি যদি তার নির্নীত হয় তাহলে তাকে অন্তরণের (Isolation) আশু প্রয়োজন পড়ে। অন্যদের মাঝে রোগটির বিস্তার রোধ এবং রোগীকে সুস্থ্য করে তোলাই অন্তরণের (Isolation) প্রধান দুটি উদ্দেশ্য। এসময় রোগী স্বাস্থ্যকর্মী ব্যতীত অন্য কারো সংস্পর্শে আসতে পারে না। স্বাস্থ্যকর্মীরা এসময় বিশেষায়িত পোশাক, যাকে বলা হয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরনজাম (Personal Protective Equipment) বা পিপিই পরিধান করে থাকেন।


লেখক,গাজী উদ্দিন,
পিএইচডি
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...