×
ব্রেকিং নিউজ :
দুই বোন মুশফিকা ও মোবাশশারাকে গুলশানের বাড়িতে প্রবেশসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকোর্টের নির্দেশ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিম ও দেহরক্ষীর এক বছর করে কারাদন্ড প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা নীলফামারীতে দুর্গাপূজায় চারশ’ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ তাসকিন-রুবেলের পারফরমেন্সে মুগ্ধ পাপন ক্রিকেট-দক্ষিণ আফ্রিকা : একত্রে বোর্ডের সকল কর্মকর্তার পদত্যাগ বাড়ি ফিরলেন কপিল চট্টগ্রামে করোনায় সংক্রমণ হার বেড়েছে সিলেট বিভাগে ২৪ ঘন্টায় করোনায় সুস্থ ৪২, আক্রান্ত ৩৭ জন অপরাধ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • আপডেট টাইম : 17/10/2020 10:55 PM
  • 27 বার পঠিত

 কয়েকটি দেশের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করেছেন যে, বিদ্যমান ঢাকা-ওয়াশিংটন ঘনিষ্ট সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফলাফল কোন প্রভাব ফেলবে না।
মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান তার সদ্যসমাপ্ত তিন দিনের ঢাকা সফরকালে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার দেশ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে বিবেচনা করে। রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট যারাই হোয়াইট হাউসে আসুক এ অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের আওতায় ঢাকার সাথে তার সম্পর্কের রূপরেখা তৈরি করে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অতীতের উদাহরণ থেকে দেখা যায় যে, প্রশাসনের পরিবর্তনের ফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কোন দ্রুত পরিবর্তন হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিগানের সাথে বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে কেউ আসুক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি এর শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ঢাকার দিকে মার্কিন আগ্রহ আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মার্কিন স্বার্থ বিবেচনায় রাখে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হোক বা ওবামা প্রশাসনের অধীনে হোক বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন নীতি পরিবর্তন হয়নি।’
তিনি বাসসকে বলেন, ‘এখন তারা (মার্কিন) আইপিএস (ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল) গ্রহণ করেছে। তবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত তাৎপর্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রেডসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনও নির্বাচনী প্রচারে তার দলের পররাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চীনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ অবশ্য বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি আত্মকেন্দ্রিক ও গ্লোবালাইজেশনের প্রতিকূলে। তাই নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক সম্পর্কিত কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের উচিত হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যখন ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন এমন সময়ে বিগান বাংলাদেশে আসেন।
আহমেদ অনুমান করেন যে, মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হতে পারে। তিনি হয়ত মার্কিন ভোটারদের বোঝাতে চান যে, রিপাবলিকানরা তাদের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং তারা চীনের বিরুদ্ধে ভূ-রাজনীতিতে তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নয়াদিল্লি ও ঢাকাকে সফরের জন্য বেছে নেওয়ার অন্য কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ভোটার।
ঢাকা সফরকালে বিগান বাসসের কূটনৈতিক সংবাদদাতাসহ কিছু সংখ্যক নির্বাচিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় যোগ দেন। এ সময় তিনি বলেন যে, বর্তমান বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক একটি ‘খুব ভাল অবস্থানে’ রয়েছে এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরো গভীরতর করার সুযোগ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে তার দেশের সম্পর্ক মূলত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা-নির্ভর এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই ইতিবাচক সম্পৃক্ততার সঙ্গে ভূ-রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নাই।’
সাম্প্রতিক একটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সংলাপে অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রণয়নে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই স্থিতিশীলতাসহ বেশকিছু কারণ এখানে ক্রমবর্ধমান মার্কিন আগ্রহকে জিইয়ে রাখে।
বিগান তার সফরের সময় অন্য এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মূল অংশীদার হিসাবে দেখে এবং আমরা একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিককে এগিয়ে নিতে এ ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ হবে এই অঞ্চলে আমাদের কাজের একটি কেন্দ্রস্থল।’
তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে।’
ঢাকা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি সম্পৃক্ততা এবং প্রভাব কামনা করে।
অন্যদিকে বিগান বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরিয়ে নিতে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সেখানে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এ অঞ্চলের বড় বড় দেশগুলোকে মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আরো ‘ব্যাপক ও ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে’ আহ্বান জানানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে ঢাকার সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতেও আগ্রহী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...