×
ব্রেকিং নিউজ :
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেল একসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক পতাকা উড়ানো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল প্রণয়ন করেছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে: খসরু সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব বিএনপি নেতা ডাবলু ‘হত্যা’র ঘটনায় সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন মির্জা ফখরুল পার্বত্যবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ পার্বত্য উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ছে সরকার : মিডা চেয়ারম্যান পে কমিশনের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে: অর্থ উপদেষ্টা সাবেক এমপি মমতাজের বাড়ি ও জমি ক্রোক সংবিধান সংস্কারে গণভোট: স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ
  • প্রকাশিত : ২০২০-১২-০১
  • ১২১২ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলা,জেলার সদর উপজেলার ধনীয়া ইউনিয়ন থেকে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে তুলাতুলী মেঘনা পাড় এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে বন বিভাগকে খবর দিলে তারা উদ্ধার করে নিয়ে যায় সাপটি। বিরল প্রজাতীর বিলুপ্তির পথে সাপটি লম্বায় প্রায় ৪ ফুট। দেশের উত্তরাঞ্চলের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় এটি বেশি দেখা যায়।
বন বিভাগের ভোলা সদর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বাসস’কে জানান, স্থানীয়রা প্রথমে অজগর ভেবে সাপটি আটক করে। এর টিকা এখনো আবিস্কার না হওয়াতে এটাকে বেশ বিষাক্তই বলা যায়। এর ছোবলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। উদ্ধারকৃত সাপটি প্রাপ্তবয়স্ক। এর আগে গত ২ বছরে সদরের রাজাপুর, ইলিশা ও তুলাতুলী থেকে ৭ থেকে ৮টি চন্দ্রবোড়া সাপ উদ্ধার হয়েছিলো। সাপটি গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, চন্দ্রবোড়া বা উলু বোড়া ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত একটি অন্যতম বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। এই সাপ সবচেয়ে বিষাক্ত ও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার ও লম্বা বহির্গামী বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হয়।
চন্দ্রবোড়ার দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক মিটার; দেহের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮ মিটার পর্যন্ত হয়। চন্দ্রবোড়া নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা নিশাচর, এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। এরা প্রচন্ড আক্রমনাত্বক হয়ে থাকে। পৃথিবীতে প্রতিবছর যত মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়, তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা যায়। এদের বিষদাঁত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
চন্দ্রবোড়া সাপ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দুর্লভ সাপ। নদীয়া বর্ধমান ও উত্তর চব্বিশ পরগনা বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার গ্রাম অঞ্চলে এই সাপ ভয়ের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ সাপ বেশি পাওয়া যায়। রাসেল ভাইপার ভারত বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। অন্যান্য সাপ মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও এ সাপটি স্বভাব ঠিক তার উল্টো। আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি ও বিষের তীব্রতার কারণে ‘কিলিংমেশিন’ হিসেবে বদনাম রয়েছে সাপটির।
নদীয়া জেলাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চীনের দক্ষিণাংশ, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, বার্মা ও ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়। এরা সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে চন্দ্রবোড়া সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যে কোনো সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো চন্দ্রবোড়া সাপের ৭৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়ার রেকর্ড আছে।
২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং ও বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat