যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, সোমালি নাগরিকদের জন্য থাকা বিশেষ সুরক্ষা মর্যাদা বাতিল করা হচ্ছে। এর ফলে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে তাদের দেশ ছাড়তে হবে।
অভিবাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিনিয়াপোলিস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
মিনেসোটায় বড় একটি সোমালি সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যটি বর্তমানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তল্লাশি ও অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত সপ্তাহে এক অভিযানে একজন কর্মকর্তা গুলি করে এক স্থানীয় নারীকে হত্যা করলে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য আইসিইর অভিযানের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে।
কোনো ফেডারেল বিচারক এটি মঞ্জুর করলে, রাজ্যে চলমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত হবে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াশিংটন মিনেসোটার সোমালি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে।
দেশটির সবচেয়ে বড় সোমালি সম্প্রদায়টি সেখানে বসবাস করছে, সেখানকার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সরকারি সহায়তা জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতর (ডিএইচএস) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সোমালিদের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস বাতিল করা হচ্ছে।
ডিএইচএসের বার্তায় বলা হয়, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। নিজ দেশে ফিরে যান, নইলে আমরা নিজেরাই আপনাদের ফেরত পাঠাব।’
এরপর ডিএইচএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি যুক্ত করে তাদের আগের পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে। ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘আমি এখন অধিনায়ক।’ এটি ‘ক্যাপ্টেন ফিলিপস’ চলচ্চিত্রের একটি সংলাপের প্রতি ইঙ্গিত, যেখানে সোমালি জলদস্যুরা একটি তেলবাহী জাহাজ দখল করে।
টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় প্রত্যাবাসন থেকে কিছু বিদেশিদের সুরক্ষা দেয় এবং তাদের কাজের অনুমতি দেয়।
মঙ্গলবারের ঘোষণায় বলা হয়, আইনি মর্যাদা হারানো সোমালিদের জন্য দেশ ছাড়ার শেষ সময় ১৭ মার্চ।
কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম সোমালি-আমেরিকান ইলহান ওমর শনিবার বলেন, ট্রাম্প ‘প্রতিদিন তাদের ভয় দেখাতে ও সন্ত্রস্ত করতে চাইছেন। কিন্তু আমরা জানি, সোমালিরা ভয় পায় না।’
মঙ্গলবার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মিনিয়াপোলিস, তার যমজ শহর সেন্ট পল ও মিনেসোটার নেতৃত্ব দেওয়া ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন,‘মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটরা নৈরাজ্যবাদী ও পেশাদার উসকানিদাতাদের সৃষ্ট অস্থিরতাকে ভালোবাসে। যে কারণে ১৯ বিলিয়ন ডলার চুরির বিষয়টি আড়ালে চলে যায়। এই টাকা চুরি করেছে খুবই খারাপ ও বিকৃত মানসিকতার মানুষরা।’
তিনি আরো লেখেন, ‘ভয় পাবেন না, মিনেসোটার মহান জনগণ। হিসাব চুকানোর ও প্রতিশোধের দিন আসছে।’
স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠক মাউলিদ মোহাম্মদ এএফপিকে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য ফেডারেল সরকারের নিপীড়নের শিকার।’
তিনি বলেন, ‘তারা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ওপর নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে চাচ্ছে। আর এ জন্য বিশেষভাবে সোমালি জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’
এদিকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) মিনেসোটা জুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মঙ্গলবার মুখোশধারী কর্মকর্তারা তল্লাশি চালানোর সময় এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে নেন। আরেকজনকে হাত-পা ধরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
মিনিয়াপোলিসে বুধবার আইসিইর এক কর্মকর্তার গুলিতে নিজের গাড়িতেই নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড।
মার্কিন গণমাধ্যম মঙ্গলবার জানায়, গুডের মৃত্যুর তদন্তে তার ভূমিকার দিকে নজর দিতে চাপ সৃষ্টি করায় মিনেসোটায় তিনজন ফেডারেল কৌঁসুলি পদত্যাগ করেছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ট্রাম্প প্রশাসন বড় অঙ্কের সরকারি সহায়তা জালিয়াতির খবরকে কেন্দ্র করে অভিবাসন অভিযান জোরদার করেছে। মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করে আরও কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে।
সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে ৯৮ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে ৮৫ জনই ‘সোমালি বংশোদ্ভূত।’
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান সরিয়ে নেওয়ার এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৫৭ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
রিপাবলিকান নির্বাচিত কর্মকর্তা ও ফেডারেল কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ একাধিকবর করার পরও স্থানীয় ডেমোক্র্যাট কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করেছে।