জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আজ বুধবার তার দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদেরকে আগাম সাধারণ নির্বাচন ডাকার পরিকল্পনার কথা জানাবেন বলে জানা গেছে। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকায়, সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই দ্রুত নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি ভাবছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন তাকাইচি। বর্তমানে তার মন্ত্রিসভার জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশ বলে জরিপে উঠে এসেছে।
তবে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তার নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত, যার ফলে তার উচ্চাভিলাষী নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকার এবং এলডিপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্যবসায়িক দৈনিক নিক্কেই শিম্বুন জানিয়েছে, ‘আজ বুধবার এক বৈঠকে, তাকাইচি ‘লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) ঊর্ধ্বতন নেতাদেরকে ২৩ জানুয়ারী নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার তার ইচ্ছার কথা বলবেন।’
নিক্কেই জানিয়েছে, ‘ক্ষমতাশীন দলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে’ এটি একটি আগাম নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে।
সরকারি সম্প্রচারক এনএইচকে আরও জানিয়েছে, তাকাইচি তার পরিকল্পনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকের সমন্বয় করছেন।
আসাহি টিভি জানিয়েছে, এলডিপির শীর্ষ নেতাদের এবং দলের জোট অংশীদার জাপান ইনোভেশন পার্টির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকটি বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটি ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত’।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২৩ জানুয়ারি নিয়মিত সংসদ অধিবেশনের শুরু ওই দিন যদি তাকাইচি নিম্নকক্ষ ভেঙে দেন, তাহলে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি হতে পারে।
ইয়োমিউরি জানিয়েছে, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং সাধারণ নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়কাল কমিয়ে রেখে, তাকাইচি আশা করছেন আসন্ন অর্থবছরের বাজেট বিল নিয়ে সংসদীয় বিতর্কের ওপর নির্বাচনের প্রভাব কমানো যাবে।