×
ব্রেকিং নিউজ :
ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত সংস্কার ও দ্রুত কারিকুলাম প্রণয়নের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সকল প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: দীপেন দেওয়ান নওগাঁয় শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিরাজগঞ্জে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে ৫শ’ বেডে উন্নীত করা হবে : মির্জা ফখরুল রমজানের পরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন : ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৩ দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • প্রকাশিত : ২০২১-০১-২৭
  • ১০২০ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জের ঊল্লাপাড়ায় ১৯২২সালের ২৭ জানুয়ারি। দিনটি ছিলো শুক্রবার। তৎকালিন পাবনা জেলার রায়গঞ্জ, তাড়াশ এবং উল্লাপাড়া থানার ত্রিমোহনী এলাকা বলে পরিচিত সলঙ্গা হাট।

আজ ৯৯ বছর পর একথা অনেকের কাছে নতুন ও বিস্ময়কর মনে হতে পারে। এটা স্বাভাবিক কারণ তৎকালিন সেদিন পাবনা জেলা বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গার হাটের যে গণ বিদ্রোহ ও হত্যাকান্ড ঘটেছিল তা নিয়ে কিছু লেখা।

মুসলিম অধ্যূষিত এই এলাকায় কংগ্রেসের কর্মী তারুণ্যের অহংকার বিকাশমান প্রতিভা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এই আন্দোলনে তাঁর সাথে কাজ করছিলেন ৩শত সেচ্ছাসেবী কংগ্রেসের কর্মী। তাঁরা জাতীয়তাবাদে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

এই সময় পাবনার তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর,এন দাস সিরাজগঞ্জ মহাকুমা কর্মকর্তা এস কে সিনহা এবং পাবনা জেলা বৃটিশ পুলিশ সুপারসহ ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে এই হাটে উপস্থিত হয়।

তরুন বিপ্লবী নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ সলঙ্গা হাটে অবস্থিত অস্থায়ী কংগ্রেস অফিসে ছিলেন। তাঁকে ওখান থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার উপর অমানুষিক পুলিশী নির্যাতন চলানো হয়।

জনতা বিপ্লবী তর্কবাগীশ কে পুলিশের বেষ্টনী থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মারমুখী দাঙ্গা পুলিশের কারনে সে সময় বেশী সুবিধা করতে পারেনি। আহত পুলিশ সুপারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মদ গাঁজার ব্যবসায়ীরা পুলিশ সুপারের চিকিৎসাকালীন সময়ে লক্ষ্য জনতা বিপ্লবী তর্কবাগীশকে মুক্ত করার জন্য তিন দিগ থেকে এগিয়ে আসেন।

মুসলমান এই বীররা ছিলেন নিরস্ত্র।কিন্তু বুকে ছিলো স্বাধীনতার চেতনা।

পুলিশ মদের দোকানের কাছে অবস্থান নেয় এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আন্দোলনকারী এবং সাধারণ হাটুুরে জনতার উপর গুলীবর্ষণ করে।

এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ডে প্রায় সাড়ে চার হাজার লোক নিহত হয় (সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী)

বেসরকারি হিসাবে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশী বলে জানা যায় , সলঙ্গা হাটে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পে গুলীবিদ্ধ আহতদের ছয় মাস চিকিৎসা করা হয়। অন্যন্য আহতরা বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা হাসপাতাল চিকিৎসা করায়। এখানে কতজন মারা গেছে তার কোন সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। প্রাণ ভয়ে পালাতে গিয়ে গুলীবিদ্ধ আহতদের কতজন মারা গেছে তারও কোন হিসাব নাই।

পুলিশের গুলীতে হাটে এতো গরু-মহিষের,ছাগল মারা যায় যে তার সংখ্যা নির্ণয় করা যায়নি। এসব জীব, জানোয়ারের শবদেহ আর নিহত মা।নুষের লাশ মিলেমিশে হয়ে গিয়েছিল একাকার। এর চেয়ে করুণ, এর চেয়ে নৃশংস ও মর্মান্তিক দৃশ্য পৃথিবীতে আর একটিও হয়নি।


মাওলানা তর্কবাগীশ তাঁর স্মৃতি কথায় লিখেছেন, গুলীবিদ্ধ হয়ে তাঁর সামনে সাতজন নিহত হয়। এদের মধ্যে তিন জনের নাম উল্লখ করা হলো ঃ উল্লাপাড়ার চাঁদ উল্লাহ, আরজ উল্লাহ ও রাজ আলী । নাম ঠিকানা জানতে পেরেছি।


৪০ জন পুলিশের মধ্যে ৩৯ জন গুলী চালায়। একজন বিহারী ক্ষত্রীয় হিন্দু গুলী না চালিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। ( তার উত্তর ছিল হাম তো আদমী কো মারনে আয়া।মায় গাও কাশি (গো হত্যা)নেহি কার সাকতা ও হামারা মাতা হ্যায়।)

অবিরাম গুলীবর্ষণে পুলিশের গুলী শেষ হয়ে যাওয়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে জনতা লাঠি বল্লম নিয়ে চারদিকে থেকে এগিয়ে আসে।

তারা তর্কবাগীশকে মুক্ত এবং হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নিতে চায়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশকে মুক্তি দেয়।

বিপ্লবী তর্কবাগীশ জনতাকে শান্ত হতে আহ্বান করেন। এই আহবানের জনগণ শান্ত হবার ফলে বৃটিশ সরকারের পুলিশ সুপার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও ৪০ জন পুলিশের প্রাণ রক্ষা পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat