×
ব্রেকিং নিউজ :
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা হেজবুল্লাহর সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের আহ্বান আসিফ মাহমুদের ১৯৯১ সালের পর আবারও নরসিংদীর ৫ আসনে বিএনপির জয় : ড. মঈন খান রাষ্ট্রপতির কাছে পিএসসি’র বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ খামেনির হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের ‘লঙ্ঘন’:শেহবাজ শরিফ পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনি হত্যাকাণ্ড ‘মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’: ইরানের প্রেসিডেন্ট ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
  • প্রকাশিত : ২০২১-১০-০৯
  • ৪২৫ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে একটি সাধারণ সুরক্ষা ও নীতি কাঠামো তৈরির জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ আজ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
আজ এখানে বাংলাদেশ সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে কর্মরত জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পক্ষে ইউএনএইচসিআরের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পরে ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সমঝোতা স্মারক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই ব্যবস্থায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের উদারতা এবং সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। 
এতে আরো বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকারেরও পূর্ননিশ্চয়তা। 
ভাসান চর সংক্রান্ত এই চুক্তির মাধ্যমে দ্বীপে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার সুবিধার্থে সেবা ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অনুমোদ দেয়া হল। 
সমঝোতা স্মারকটি শিক্ষা, দক্ষতা-প্রশিক্ষণ, জীবিকা এবং স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, যা শরণার্থীদের দ্বীপটিতে শালীন জীবনযাপনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য তাদের আরো ভালোভাবে প্রস্তত করবে।
দ্বীপটিতে বাংলাদেশী এসজিও’র মাধ্যমে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবিক সহযোগিতা পরিপূরক ভিত্তি তৈরি করবে।
এমওইউ স্বাক্ষরের আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা কমিউনিটি এবং দ্বীপটিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে জাতিসংঘ আলোচনা করেছে। এরমধ্যে রয়েছে তাদের চাহিদা ও মতামত ভালোভাবে বোঝার জন্য ২০২১ সালের মার্চে জাতিসংঘের ভাসান চর সফর। 
ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই আলোচনা দ্বীপে কাজ করা সরকারের সমকক্ষীয় ও এনজিওগুলোর সঙ্গে নিয়মিত চলতে থাকবে এবং ভাসান চরে যে কোন মানবিক ও সুরক্ষার বিষয় ইউএনএইচসিআরকে অবহিত করবে। 
ইউএনএইচসিআর বলেছে, জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে উদার মানবিক সহায়তার বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করবে। 
বিবৃতিতে বলা হয়, যৌথ পরিকল্পনায় কক্সবাজারে মানবিক সহায়তায় যে অর্থ এই বছরের জন্য ধার্য করা ছিল, তার অর্ধেকের কম তহবিল এসেছে।
এতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘ, বাংলাদেশ সরকার এবং পাশাপাশি দেশে আশ্রয় গ্রহনকারী রোহিঙ্গাদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিরপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সাথে ও স্থায়ীভাবে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যহত থাকবে। 
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৩১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ রোহিঙ্গার থাকার জন্য ভাসান চরে আশ্রায়ন-৩ বাস্তবায়ন করেছে। এখন পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ভাসান চরে মোট ১২০টি পাকা-ঘরের গুচ্ছগ্রাম ও ১২০টি সাইক্লোন শেল্টার, স্কুলঘর, হাসপাতাল, খামার ও মাছ চাষ, খেলার মাঠ এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। বাস করার স্থান হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রের চেয়ে এটা অনেক ভাল। 
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় দিয়েছে। এদের অধিকাংশই মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-অভিযান শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এই নির্মম ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিগত চার বছরে একজন রোহিঙ্গাও তাদের দেশে ফিরে যায়নি। যদিও মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat