×
ব্রেকিং নিউজ :
কুরআন হাদিসের দৃষ্টিতে ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি, ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দের বন্যা দিনাজপুরে এ্যাকুয়া থিম পার্কের ৮টি কক্ষ সিলগালা যশোরে ‘কাচ্চি ভাই’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা শেরপুরে দুদকের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে পেস্টিসাইড নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিচালিত ক্যাপস্টোন কোর্স সমাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এমএসএফ’র আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৮-২০
  • ৬৫৫৫২৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ডিএসসিসি অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
কলেরা হলেই দেরি না করে সময় মতো চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হলে  পানিশূন্যতার কারণে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন,  নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।

সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং কিছু এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আমাদেরকে একটি টার্গেটেড ইভিডেন্স বেজড এবং প্রিভেনটিভ এপ্রোচ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এ কারণেই রোগের বোঝা, পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’

রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি না। বরং রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না, বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা প্রযুক্তিরও কার্যকর ব্যবহার করছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজস্ব ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, কভারেজ মনিটরিং, প্রোগ্রাম সুপারভিশন এবং পরবর্তী মূল্যায়ন আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।

সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২য় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজই গ্রহণ করতে হবে। ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ব্যতীত) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। সারাদেশে সর্বমোট ৫১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।

ডিএসসিসির অধীনস্থ লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এই ৪টি থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ডিএনসিসির শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতায় আমরা ১৭টি ওয়ার্ডেও এই কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচও-এর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআরবির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat