জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে আসন্ন অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাড ভেলোরেম সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।
একই সঙ্গে সিগারেটের বিদ্যমান ৪টি মূল্য স্তরের পরিবর্তে ৩ টি মূল্য স্তর এবং প্রিমিয়াম স্তর ছাড়া অন্য স্তরসমূহের মূল্য থেকে ‘ও তদূর্ধ’ শব্দদ্বয় বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাকজাত দ্রব্যে উচ্চ কর আরোপ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিসময় সভায় এ কর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় আসন্ন অর্থবছরের তামাক কর প্রস্তাব ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপি’র প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং মধ্যম ও নিম্ন স্তরকে একীভূত করে তাতে ১০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা এবং প্রতি ১০ শলাকায় অতিরিক্ত ৪ টাকা ‘সুনির্দিষ্ট সম্পুরক শুল্ক’ আরোপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রিমিয়াম স্তর ব্যাতিত অন্য স্তরসমূহের মূল্য থেকে ‘ও তদূর্ধ’ শব্দদ্বয় বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিড়ির কর প্রস্তাবে ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিভাজন তুলে দিয়ে সুনির্দিষ্ট শুল্ক ব্যবস্থার প্রচলনসহ ২০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া জর্দ্দা ও গুলের ওপর সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার প্রচলনসহ প্রতি ১০ গ্রাম জর্দ্দার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে উভয় ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। উভয় পণ্যের ওপর আরোপিত সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ এনবিআর-কে নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া সকল তামাকজাত দ্রব্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তামাক পাতা রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছেন তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, বিইআর-এর তামাক কর প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ও বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ড. রুমানা হক। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনটিটিপি’র টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও একাত্তর টেলিভিশনের প্লানিং এডিটর সুশান্ত সিনহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিএনটিটিপি’র টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ড. এস এম আব্দুল্লাহ ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিথুন বৈদ্য।
সভায় আসন্ন অর্থবছরের তামাক কর প্রস্তাব ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপি’র প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত কর প্রস্তাবটি কার্যকর করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগ করতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একইসঙ্গে তামাকের ব্যবহার প্রায় ০.৫ শতাংশ কমবে। পাশাপাশি তামাক কর থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব অর্জিত হবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।