×
ব্রেকিং নিউজ :
২০২৬ সালে হজযাত্রীরা ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন : ধর্ম উপদেষ্টা চট্টগ্রামের-১৬ আসনে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন সাতক্ষীরায় নির্বাচনের লক্ষে প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : জেলা প্রশাসক সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান মনিরুল হক চৌধুরীর হবিগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার গুলশান মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজে ভোট দেবেন তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভূমি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ১০টি মাইলফলক অর্জন: এক ছাতার নিচে সব সেবা
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-১০
  • ৬৫৬৭৭৩৪ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে এই খাতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্বচ্ছ ও টেকসই রোডম্যাপ রেখে যেতে কাজ করছে।

আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, প্রথমেই দুর্নীতির যে আর্কিটেকচারটি (কাঠামো) ছিল সেটিকে ভেঙে দিয়েছি। ২০১০ সালের দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আইন বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের হাতে আগে ছিল না। এর ফলে গত ১৬-১৭ মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি পদ্ধতিগত দুর্নীতির চিত্র চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে, বিচারপতি ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত আরেকটি কমিটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য রেখে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বন্ধ করা হয়েছে। আগে একই মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অধীনস্থ কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তা বাতিল করা হয়েছে। এখন কোনো সচিবই আর তার অধীন বিভাগের কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে নেই।

উপদেষ্টা বলেন, খাতভিত্তিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ এবং মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি-২০২৫ উল্লেখযোগ্য। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে একটি নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ট্যারিফ বেশি হওয়ার অভিযোগ যাচাইয়ে বুয়েটের নেতৃত্বে একটি কমিটি প্রকল্পভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছে। কোথায় কতটা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিপুল পরিমাণ বিদেশি বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমানো সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তেল আমদানিতে রিফাইনারি মালিকানার শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং প্রিমিয়াম প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এতে ছয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫৭ বছরের পুরোনো রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রিফাইনারি ইউরো-৫/৬ মানে উন্নীত হবে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক হবে।

গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অনশোর ও অফশোর অনুসন্ধান সময়সাপেক্ষ। অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত চুক্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে নতুন সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছরে অনেকগুলো আন্দোলন হয়েছে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। ফলে সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে গিয়ে নতুন করে কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য।

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বছরের মার্চে ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা বাড়বে। এছাড়া আদানি চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে। বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যয় কমানো ও সীমিত ভর্তুকির কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। আর এসব খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে। তবে আশা করা হচ্ছে নির্বাচিত সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat