সাতক্ষীরায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড় মোড়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার। জেলার ৪টি আসনের মোট ৬০৯টি ভোট কেন্দ্রের ভোট কক্ষগুলো সাজানোসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার জুয়েল আরেফিন, সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্নেল চৌধুরী নাবিদ রিফাত মনজুর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস, জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ থেকে প্রার্থীদের প্রচার-প্রাচারণা শেষ হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চারটি সংসদীয় আসনে ৬০৯টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এসব ভোট কেন্দ্র গুলোর ভোট কক্ষ সাজানো এবং এছাড়া ৬০৯টি ভোট কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এছাড়া, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের সকল বাহিনী তাদের যে টহল টিমসহ যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন তারা ভোট কেন্দ্র গুলো টহল দিচ্ছেন। সেই সাথে যানবাহনে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটার ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে যানবাহনে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে আগামীকাল ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সামগ্রী সেটিও যাতে নিরাপদের সাথে ভোট কেন্দ্রে পৌছাতে পারে এবং থাকতে পারে সে ব্যবস্থা গুলোও আমরা সম্পন্ন করেছি। সুতরাং, আমরা মনে করি আগামী ১২ তারিখ যে নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ সেটা অত্যন্ত উৎসবমূখর পরিবেশে হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দিতে পারবেন।
এদিকে, সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ভোট কেন্দ্র ভীতিকর ও প্রভাবমুক্ত রাখতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় ইতোমধ্যে চারটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। জেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৬শ’ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা টহল জোরদার করার পাশাপাশি মানুষের মনে যাতে কোনো ভয়-ভীতি না থাকে, সেজন্য এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। কেউ তাদের হুমকি দিচ্ছে কি-না। হুমকি পেলে যাতে নিকটস্থ ক্যাম্পে জানানো হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।